Blog Archives

হুনাইনের যুদ্ধ – ইবনে হিশাম


আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর সাদা খচ্চরটির লাগাম ধরে বসেছিলাম। আমি খুব মোটাসোটা ও বুলন্দ কন্ঠের অধিকারী ছিলাম। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মুসলিম সৈনিকদের ঊর্ধশ্বাসে ছুটতে দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে লোকেরা, আমি তোমাদেরকে কারো প্রতি ফিরে তাকাতে দেখছি না!” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আব্বাস ! চিৎকার করে এভাবে ডাক দাও ; ‘হে আনসারগণ ! ওহে বাবুল বৃক্ষের নীচে অংগীকারদাতাগণ !”

আমি আদেশ অনুসারে ডাকতে লাগলে প্রত্যেকে লাব্বায়েক বলে সাড়া দিতে লাগলো। এই সময় অশ্বারোহী সাহাবীদের কেউ কেউ ছুটন্ত ও পলায়নরত উটের গতি ফিরাতে ব্যর্থ হয়ে বর্ম দিয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করেন। তাতেও ফিরাতে না পেরে অস্ত্র নিয়ে উট থেকে নেমে আসেন এবং উটকে ছেড়ে দেন। অতঃপর যেদিন থেকে আওয়াজ আসছে সেদিকে এগিয়ে যান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছে যান। এভাবে একশ জনের মত সাহাবী জমায়েত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন এবং তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হলেন।

প্রথমে “হে আনসারগণ” বলে ডাকা হতে থাকে। পরে শুধু “হে খাযরাজ” বলে ডাকা শুরু হয়। কেননা খাযরাজ রণাঙ্গনে দৃঢ়চিত্ত বলে আরবদের কাছে সুপরিচিত ছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাযরাজের বাহিনী নিয়ে এগুতে থাকেন। তারপর রণাঙ্গনের দিকে তাকিয়ে দেখেন, প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলছে। তা দেখে বললেন, “এবার রণাঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে”।

হুনাইনের দিনকে স্মরণ করো, যখন তোমরা নিজেদের সংখ্যাধিক্যতে তুষ্ট ছিলে; কিন্তু তাতে তোমাদের কোনো কাজ হয়নি; বরং জমিন প্রশস্ত থাকা সত্ত্বেও তা তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো এবং তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়েছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং মুসলমানদের ওপর নিজের তরফ থেকে সান্ত্বনা ও প্রশান্তির ভাবধারা নাযিল করলেন এবং তোমরা দেখতে পাওনি এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করে কাফিরদের শাস্তি দিলেন। কাফিরদের জন্যে এমনি শাস্তিই নির্ধারিত।
(
সূরা তাওবাঃ ২৫,২৬)

DOWNLOAD PDF TO READ DETAILS (4.38Mb only)

***************

%d bloggers like this: