Category Archives: জিহাদ ও ক্বিতাল

জিহাদ ও ক্বিতাল


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

Jihad_o_Qital By Dr. Muhammad AsadullahAl-ghalib

Download

হুনাইনের যুদ্ধ – ইবনে হিশাম


আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর সাদা খচ্চরটির লাগাম ধরে বসেছিলাম। আমি খুব মোটাসোটা ও বুলন্দ কন্ঠের অধিকারী ছিলাম। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মুসলিম সৈনিকদের ঊর্ধশ্বাসে ছুটতে দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে লোকেরা, আমি তোমাদেরকে কারো প্রতি ফিরে তাকাতে দেখছি না!” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আব্বাস ! চিৎকার করে এভাবে ডাক দাও ; ‘হে আনসারগণ ! ওহে বাবুল বৃক্ষের নীচে অংগীকারদাতাগণ !”

আমি আদেশ অনুসারে ডাকতে লাগলে প্রত্যেকে লাব্বায়েক বলে সাড়া দিতে লাগলো। এই সময় অশ্বারোহী সাহাবীদের কেউ কেউ ছুটন্ত ও পলায়নরত উটের গতি ফিরাতে ব্যর্থ হয়ে বর্ম দিয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করেন। তাতেও ফিরাতে না পেরে অস্ত্র নিয়ে উট থেকে নেমে আসেন এবং উটকে ছেড়ে দেন। অতঃপর যেদিন থেকে আওয়াজ আসছে সেদিকে এগিয়ে যান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছে যান। এভাবে একশ জনের মত সাহাবী জমায়েত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন এবং তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হলেন।

প্রথমে “হে আনসারগণ” বলে ডাকা হতে থাকে। পরে শুধু “হে খাযরাজ” বলে ডাকা শুরু হয়। কেননা খাযরাজ রণাঙ্গনে দৃঢ়চিত্ত বলে আরবদের কাছে সুপরিচিত ছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাযরাজের বাহিনী নিয়ে এগুতে থাকেন। তারপর রণাঙ্গনের দিকে তাকিয়ে দেখেন, প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলছে। তা দেখে বললেন, “এবার রণাঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে”।

হুনাইনের দিনকে স্মরণ করো, যখন তোমরা নিজেদের সংখ্যাধিক্যতে তুষ্ট ছিলে; কিন্তু তাতে তোমাদের কোনো কাজ হয়নি; বরং জমিন প্রশস্ত থাকা সত্ত্বেও তা তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো এবং তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়েছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং মুসলমানদের ওপর নিজের তরফ থেকে সান্ত্বনা ও প্রশান্তির ভাবধারা নাযিল করলেন এবং তোমরা দেখতে পাওনি এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করে কাফিরদের শাস্তি দিলেন। কাফিরদের জন্যে এমনি শাস্তিই নির্ধারিত।
(
সূরা তাওবাঃ ২৫,২৬)

DOWNLOAD PDF TO READ DETAILS (4.38Mb only)

***************

বদর যুদ্ধ


বদরের যুদ্ধ

‘সীরাতে ইবনে হিশাম’ হতে সংকলিত

[ সাইয়্যিদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাচীনতম জীবনীগ্রন্থ ]

মূলঃ ইবনে হিশাম

অনুবাদঃ আকরাম ফারুক

ময়দানে যখন উভয় পক্ষের সৈন্যদল মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো, তখন এক অদ্ভূত দৃশ্যের অবতারণা হলো। একদিকে ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণকারী তার বন্দেগী ও আনুগত্য স্বীকারকারী মাত্র ৩১৩ জন মুসলমান, যাদের কাছে সাধারণ যুদ্ধ সরঞ্জাম পর্যন্ত ছিল না। অন্যদিকে ছিল অস্ত্র-শস্ত্র ও রসদ-পত্রে সুসজ্জিত এক সহস্রাধিক কাফির সৈন্য,যারা এসেছে তওহীদের আওয়াজকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা নিয়ে। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে নবী কারীম(সা:) খোদার দরবারে হাত তুললেন এবং অতীব বিনয় নম্রতার সাথে বললেনঃ হে খোদা এই কুরাইশরা চরম ঔদ্ধত্য ও অহমিকা নিয়ে এসেছে তোমার রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে । অতএব আমায় যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি তুমি দিয়েছিলে ,এখন সে সাহায্য প্রেরণ করো। হে খোদা ! আজ এই মুষ্টিমেয় দলটি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে দুনিয়ায় তোমার বন্দেগী করার আর কেউ থাকবে না।

বইটি ডাউনলোড করি (৯.৮৮মেগাবাইট)

***********

উহুদের যুদ্ধ


যুদ্ধ ভয়ংকর আকার ধারণ করলো। আবু দুজানা রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের দেহকে ঢাল বানিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রক্ষা করতে লাগলেন। তাঁর পিঠে তীর বিদ্ধ হচ্ছিল আর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আড়াল করে তাঁর উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিলেন। এভাবে তাঁর গায়ে বিদ্ধ তীরের সংখ্যা দাঁড়ালো প্রচুর। আর সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিরক্ষার চেষ্টায় তীর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। সা’দ বললেন, আবু দুজানাকে দেখলাম, আমাকে একটার পর একটা তীর দিয়েই চলছেন আর বলছেন,’তোমার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক। তুমি তীর নিক্ষেপ করতে থাক এমনকি এক সময় তিনি ফলকবিহীন তীরও দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন, “নিক্ষেপ কর।”

পরাজয় ঘটার এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাহাদাত লাভের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখে সর্বপ্রথম চিনতে পারেন কা’ব ইবনে মালিক। কা’ব বলেন, শিরস্ত্রাণের ভেতর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিলো আর তা দেখেই আমি চিনতে পারলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বললাম, “হে মুসলমানগণ, সুসংবাদ ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেঁচে আছেন। তিনি এখানে।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারা করে বললেন, “তুমি চুপ থাক।”

মুসলমানগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চেনার পর তাঁকে নিয়ে সবাই পর্বতের ঘাঁটিতে চলে গেলেন। এই সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন আবু বকর সিদ্দীক, উমার ফারুক, আলি ইবনে আবি তালিব, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সহ একদল মুসলমান।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পর্বতের ঘাঁটিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন উবাই ইবনে খালফ সেখানে পৌঁছল। সে বললো, হে মুহাম্মদ, এ যাত্রা তুমি প্রাণে বেঁচে গেলেও তোমার নিস্তার নেই।” মুসলমানগণ বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ ! এ লোকটিকে সহানুভূতি দেখানো কি আমাদের কারো জন্যে সঙ্গত?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ওকে আসতে দাও।” সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলে, তিনি হারেস ইবনে সিম্মারের কাছে বর্শা নিলেন। বর্শা হাতে নেয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ভয়ংকর পাঁয়তারা করলেন যে, উট প্রবল জোরে নড়ে উঠলে তার পিঠের উপর বসা বিষাক্ত ভিমরুলের ঝাঁক যেমন ছত্রভংগ হয়ে যায়, আমরাও ঠিক তেমনি ভীতসন্ন্ত্রস্ত্র হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে ছত্রভংগ হয়ে দূরে ছিটকে পড়লাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে এগিয়ে গেলেন।

বইটি ডাউনলোড করে বিস্তারিত পড়ি [৮.৮০ মেগাবাইট]

*************

%d bloggers like this: