“আল্লাহ সু’দকে নিশ্চিহ্ন করেন” ও সমকালীন বিশ্ব অর্থনীতি


DOWNLOAD THIS BOOK [1.46 MB only]

এটা সবার নিকট সু্স্পষ্ট যে বর্তমান চলমান অর্থনৈতিক সংকট প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যসহ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত মারাত্মক একটা ব্যাপার যা রাজনৈতিক, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং অর্থনীতিবীদদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। এটা এত বিশাল একটা দুর্যোগ যে তা অত্যন্ত জটিল এবং এর সাথে অনেক বিষয় জড়িত, যা রাজনৈতিক ও অর্থনীতিবীদদের মহা হাঙ্গামায় পতিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে, এবং এটিকে নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এত এত লেখালেখির কারণও তুলে ধরে। তারা সকলেই একটি সন্দেহযুক্ত অবস্থায় নিমজ্জিত আর তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে একে অন্যকে এই জন্য দায়ী করা শুরু করেছেন।

এটি বিভিন্ন ব্যাংক এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে, বিলিয়নের মত লগ্নিকারী অর্থনৈতিক বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে, অনেক দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছে, মিলিয়নের মত লোক তাদের সম্পদ হারিয়েছে, শেয়ার সঞ্চয় কিংবা বিনিয়োগের মাধ্যমে; আমেরিকান জনগণ শেয়ার বাজার থেকে প্রায় চার ট্রিলিয়ন টাকা হারিয়েছে। এই সংকট সুনামীর আকার ধারণ করেছে এবং পৃথিবীর অনেক দেশকে বড়সড় রকমের আঘাত হেনেছে।

জার্মান অর্থমন্ত্রী পিয়ার স্টেইনব্রুয়েক বলেছেন, এই পৃথিবী আর কখনোই তার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না ঠিক যেমনটি তা এই সংকটের পূর্বে ছিল।

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও।(সূরা বাকারাঃ২৭৮-২৭৯)

এই যুদ্ধ আজ নানাভাবে প্রতীয়মান হচ্ছেঃ অন্তর ও মনের ওপর, প্রাচুর্য ও উন্নতির ওপর, সম্পদও ক্ষমতার ওপর, সুখ ও মনের শান্তির ওপর। এই যুদ্ধ হল ভয় ও দুশ্চিন্তার, বিধ্বংসী ও নিংড়ানো; যা আজো চালিত হচ্ছে ও এর চলার পথে সবকিছু গ্রাস করে নিচ্ছে এবং এটি ঘৃণ্য রিবা ভিত্তিক ব্যবস্থারই ফলাফলস্বরূপ।

এই সংকটের কারণে আজ তারা হতাশা, দুশ্চিন্তা, বিফলতা এবং স্নায়ুদৌর্বল্যে এতটা র্জজরিত যে আমেরিকান মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ ন্যান্সি মলিটর বলেছেন, আমার বিশ বছরের পেশাগত জীবনে এর আগে আমি কখনো এরকম দিন দেখিনি। অনিশ্চয়তাবোধের মাত্রা পূর্ববর্তী সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এটা এমন একটা পর্যায়ে পৌছেছে যে এই সংকটের চাপে খুন ও আত্মহত্যার মত ঘটনাবলী ঘটছে।

বিপর্যয় বাস্তবিক এবং বাস্তবতার অতীত-উভয় ধরনেরই। এটা সম্পদের বরকত কেড়ে নেয় তাই মানুষ তা থেকে আর উপকৃত হয় না, অথবা এটা সমস্ত সম্পদই একসাথে কেড়ে নিয়ে যায়, যেমনটি আমরা শুনেছি আমেরিকা পেনশন ফান্ড থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় উবে গিয়েছে! এই সংকট ১৬টি ব্যাংক নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, যার মধ্যে IndyMac ব্যাংকও রয়েছে যেটা প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ও ১৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডেপোজিট নিয়ন্ত্রণ করত। এমনকি, ইউরোপের ৭টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে দেউলেত্বর(bankruptcy) অভিযোগ আনীত হয়েছে।

  • কিছু বিশ্লেষণ এটা আশা করছে যে পরবর্তী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ১১০ টি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেগুলো প্রায় ৮৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে।

আজ পশ্চিমা নেতৃত্ব তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা স্বীকার করেন, এমনকি একে ক্ষয় হয়ে যাওয়া এবং মূল্যহীন বলেও বর্ণনা করেন। এমনকি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি বলেছেন, “আমাদের উচিত বিশ্ব অর্থনীতি এবং মুদ্রা ব্যবস্থা একেবারে গোড়া থেকে উপরের দিকে পুনঃনির্মাণ করা।”

পশ্চিমারা ইতোমধ্যেই এর বাস্তবতা অনুধাবন করতে পেরেছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পত্রিকা প্রকাশনা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামিক বিধিমালার প্রায়োগিক আহ্বান জানিয়েছে যাতে করে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে জড়িত পুঁজিবাদের দৃঢ়মুষ্টি থেকে আলগা হতে পারে যেটা কিনা এই পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে।

  • তাদের একজন আশ্চর্য হয়ে এমনকি এটাও লিখেছেঃ “ওয়াল স্ট্রিট কি ইসলামিক শরী’আর বিধিমালা সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত?”
  • ইউরোপের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ, সাওয়াতি তানেজা বলেছেনঃ “আমেরিকার চলমান অর্থনৈতিক সংকট ইসলামী অর্থনীতিকে একটি সুবর্ণ সুযোগ দিয়েছে যেটা কিনা সুদযুক্ত লেনদেনের বিপরীত।”

পাপের ভয়াবহ পরিণাম সকলের ওপরই প্রভাব বিস্তার করে :এটা আপাত দৃষ্টিতে প্রতীয়মান যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এবং জাতিসংঘের মহাসচিব এর বক্তব্যেও তা প্রতিফলিত হয়েছেঃ এই অর্থনৈতিক সংকট পৃথিবীজুড়ে বিলিয়নের মত জনগোষ্ঠীর জীবিকা আহরণকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

  • ৩৪০০০ খাদ্য নিরাপত্তা অফিসে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছেঃ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে ধ্বস নেমে এসেছে সেটা এক মহাদুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে যার ফলে ২০০৯ সালের শুরুতে আক্রান্ত হবে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ৩৬টি দেশ।
  • আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গালফ পুঁজিবাজার থেকে ১৫৫ বিলিয়ন ডলার হাওয়া গিয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশঙ্কা করেছেন যে এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রায় ২০ মিলিয়ন লোক তাদের চাকরি হারাবে পরবর্তী বছরের শেষের দিকে।

DOWNLOAD THIS BOOK [1.46 MB only]

*****************

Posted on 22/10/2011, in সুদ ও ঘুস. Bookmark the permalink. 1 Comment.

  1. I wish your success. May Allah help your preaching Islam. I request you that always post authentic books from authentic libraries of Bangladesh, such as, Tawheed Publications, Ahle Hadith Library, Husain Al Madani Library, Hadith Foundation Library Rajshahi etc. Also please never publish books of the writer those are followers of Mazhab instead of Quran and Sahih Hadith.
    Zajakallahu Khairan,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: